এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ সারাদেশে আনন্দ-উৎসবে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সোমবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঈদের আগমনে সারা দেশজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।
সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে আটটায় দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সচিবসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। ক্বারী হিসেবে ছিলেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক শাহজাহান মিয়া জানিয়েছেন, এবার জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। সেখানে নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থানসহ ওজুখানা, শৌচাগার এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য আরামদায়ক কার্পেট বিছানো হয়, ফলে জায়নামাজ আনার প্রয়োজন হয়নি। চিকিৎসা সহায়তার জন্য দুটি মেডিকেল টিমও সেখানে মোতায়েন ছিল।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতিবারের মতো এবারও পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত শুরু হয় সকাল ৭টায় এবং শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বেলা পৌনে ১১টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিববুল্লাহিল বাকী।
ঢাকা উত্তর সিটির উদ্যোগে পুরাতন বানিজ্য মেলা মাঠে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। সেখানে ঈদ আনন্দ মিছিল ও ঈদ মেলার আয়োজনও ছিল। পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা ঈদের আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলেছে।
ঈদের দিন কুশল বিনিময়, কোলাকুলি, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়ানো, কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঈদ উপলক্ষে রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান— ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির মাস। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়। ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়।