সিলেটে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে লাখো মুসল্লীর ঈদের নামাজ আদায়

Shahi Eidga Eid jamaat

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হলো ঈদের প্রধান জামাত, যেখানে লাখো মুসল্লী একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। কয়েকশ’ বছরের পুরোনো এই ঈদগাহ ময়দান মোঘল আমল থেকেই ঈদ জামাতের ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

ঈদ জামাতের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এবারের ঈদ জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যুহ গড়ে তোলা হয়। র‌্যাব-পুলিশের টহল ছিলো সর্বত্র।

সকাল থেকেই সিলেটের আকাশ ছিল মেঘলা, বাতাসে ছিল মৃদু শীতলতা। বৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা থাকলেও হাজারো মুসল্লীর ভিড় ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ করে। দুরদুরান্ত থেকে মুসল্লীরা গাড়ি ও হেঁটে এসে ঈদের জামাতে শরীক হন।

প্রবীণ আলেমের বয়ান ও মোনাজাত

প্রবীণ আলেম ও বরুনার পীর আল্লামা রশীদুর রহমান ফারুক ঈদ জামাতে ধর্মীয় বয়ান প্রদান করেন। তিনি ঈমান ও আমল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং ফিলিস্তিনের গাজার মুসলমানদের জন্য দোয়া চান।

সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাহের মোতাওয়াল্লী ও সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে নামাজ পরিচালিত হয়। জামাত শুরুর আগে মুসল্লীদের ভিড় ঈদগাহ ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ঈদের পর কবর জিয়ারত

ঈদের জামাত শেষে মুসল্লীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করেন। জামাত শেষে অনেকেই হযরত মানিক পীর (রহ.) গোরস্থান ও হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহস্থ কবরস্থানে যান স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে। সেখানে তারা কবরবাসীদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহের এই ঈদ জামাত শুধু ধর্মীয় নয়, এটি এক মিলনমেলাও বটে। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এবারের ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।