আমিরাতে ভিসা বন্ধের বিষয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভিসা বন্ধের অন্যতম কারণ হচ্ছে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার প্রবণতা, যা একদিকে আমিরাতের শ্রমবাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আরব আমিরাত কতৃপক্ষ বলছে যে “ ডাক্তার এর সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে আমরা দেখতেছি সে ডাক্তার হইতেই পারে না দেখা যাচ্ছে । ডাক্তার না আসে কিন্তু সার্টিফিকেট নিয়ে আসছে ডাক্তারের ওই ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি নিয়ে এখানে এসেছে । আমরা কতটা বাছাই করবো আমরা লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাকরির জন্য সবাইকে সুযোগ দিতে চাই, তবে সেটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে। কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করছে এবং কিছু এজেন্ট এই ধরনের প্রতারণায় সহযোগিতা করছে। শুধু একজন নয়, অসংখ্য এজেন্ট রয়েছে যারা এই অবৈধ পদ্ধতিতে লোক পাঠিয়ে দিচ্ছে।”
মানবপাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেক মেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কাজের আশায় যাচ্ছে, কিন্তু তাদের অনেকেই ফিরে আসতে পারছে না। তাদের অনেককে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা হিউম্যান ট্রাফিকিংয়ের ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরছে। কতজন লাশ হয়ে ফিরে আসছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি পরিশেষে বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা এই ধরনের প্রতারণা বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। যারা প্রকৃত যোগ্যতা নিয়ে বৈধভাবে আসতে চান, তাদের জন্য আমরা সুযোগ তৈরি করব, তবে অবৈধ উপায়ে যারা আসছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি সূত্র মতে, ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এনে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে এবং বিশেষ করে মানবপাচার প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।