পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই মাসের প্রতিটি দিনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। রমজানের প্রতিটি রোজা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানের ১৯তম রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। অনেক বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে—
“রমজানের ১৯ নম্বর রোজার ফজিলত হলো— পৃথিবীর সকল পাথর, কংকর, টিলা ও টংকর রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে।”
এটি মূলত রোজাদারের মর্যাদা ও আল্লাহর কাছে তার সম্মান বোঝানোর জন্য উল্লেখ করা হয়। রোজা মানুষের আত্মাকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সোমবার (০৯ মার্চ) বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র রমজান মাসের ১৯তম রোজা। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে নিচে দেশের বিভাগভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৯ রমজান ২০২৬ সময়সূচী (বাংলাদেশ সময়)
| বিভাগ | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|
| ঢাকা বিভাগ | ভোর ৪:৫৭ | সন্ধ্যা ৬:০৭ |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | ভোর ৪:৫২ | সন্ধ্যা ৬:০২ |
| সিলেট বিভাগ | ভোর ৪:৪৯ | সন্ধ্যা ৬:০০ |
| খুলনা বিভাগ | ভোর ৫:০১ | সন্ধ্যা ৬:১০ |
| রাজশাহী বিভাগ | ভোর ৫:০২ | সন্ধ্যা ৬:১২ |
| রংপুর বিভাগ | ভোর ৫:০১ | সন্ধ্যা ৬:১০ |
| বরিশাল বিভাগ | ভোর ৪:৫৮ | সন্ধ্যা ৬:০৬ |
| ময়মনসিংহ বিভাগ | ভোর ৪:৫৬ | সন্ধ্যা ৬:০৭ |
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাধারণত ঢাকা জেলার সময়কে ভিত্তি ধরে রমজানের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। তবে অন্যান্য জেলায় স্থানীয় সময়ের কারণে কয়েক মিনিটের পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণে নিজ নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষণাও অনুসরণ করা উত্তম।
রমজান মাসে মুসলমানরা রোজা পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও নফল ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। এই পবিত্র মাস মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ এনে দেয়।
১৯ রমজান সম্পর্কিত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ১৯তম রমজানের বিশেষ ফজিলত কী?
বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়েছে, এই দিনের রোজাদারের জন্য পৃথিবীর পাথর-কংকর পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে।
২. রমজানের প্রতিটি রোজার কি আলাদা ফজিলত আছে?
অনেক ইসলামি বর্ণনায় প্রতিদিনের রোজার আলাদা ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও মূল গুরুত্ব পুরো রমজান মাসের ইবাদতের ওপর।
৩. রমজানে কোন সময় বেশি ইবাদত করা উত্তম?
রমজানের পুরো মাসই ইবাদতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শেষ দশককে বিশেষভাবে বেশি ফজিলতপূর্ণ বলা হয়।
৪. রমজানের রোজার মূল উদ্দেশ্য কী?
রমজানের রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা এবং আত্মসংযমের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা।
৫. রোজা রাখার সবচেয়ে বড় পুরস্কার কী?
হাদিস অনুযায়ী, রোজাদারের প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ প্রদান করবেন এবং রোজাদারের জন্য জান্নাতে বিশেষ দরজা “রাইয়ান” রয়েছে।
