২৩ তম রমজান পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের অন্যতম বিজোড় রাত, যা লাইলাতুল কদর (মহিমান্বিত রাত) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রাখে। এই রাতে ইবাদত ১০০০ মাসের চেয়ে উত্তম, দোয়া কবুল হয় এবং পূর্বের সব গুনাহ মাফের সুযোগ থাকে। এছাড়া, এই দিনে জান্নাতে রোজাদারের জন্য একটি শহর নির্মাণের সুসংবাদ রয়েছে। রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোর (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) মধ্যে ২৩তম রাতটি লাইলাতুল কদর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে নিচে দেশের বিভাগভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
📅 ২৩ রমজান ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
| বিভাগ | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|
| ঢাকা বিভাগ | ভোর ৪:৫৩ | সন্ধ্যা ৬:১০ |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | ভোর ৪:৪৮ | সন্ধ্যা ৬:০৫ |
| সিলেট বিভাগ | ভোর ৪:৪৫ | সন্ধ্যা ৬:০৪ |
| খুলনা বিভাগ | ভোর ৪:৫৭ | সন্ধ্যা ৬:১৪ |
| রাজশাহী বিভাগ | ভোর ৪:৫৮ | সন্ধ্যা ৬:১৬ |
| রংপুর বিভাগ | ভোর ৪:৫৭ | সন্ধ্যা ৬:১৪ |
| বরিশাল বিভাগ | ভোর ৪:৫৪ | সন্ধ্যা ৬:১০ |
| ময়মনসিংহ বিভাগ | ভোর ৪:৫২ | সন্ধ্যা ৬:১১ |
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাধারণত ঢাকা জেলার সময়কে ভিত্তি ধরে রমজানের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। অন্যান্য জেলায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কয়েক মিনিটের পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণে নিজ নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষণাও অনুসরণ করা উত্তম।
রমজানের শেষ দশকে মুসলমানরা বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও দান-সদকা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে এই সময় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৩ রমজানের সম্পর্কিত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ২৩ রমজানের বিশেষ গুরুত্ব কী?
২৩ রমজান রমজানের শেষ দশকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজোড় রাত এবং এই রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে অনেক মুসলমান বেশি ইবাদত করেন।
২. লাইলাতুল কদর কোন রাতে হতে পারে?
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে।
৩. রমজান মাসে কোন ধরণের শয়তান বন্দী করা হয়
ইসলামি আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রমজান মাসে মূলত বড় ও শক্তিশালী শয়তানদের বন্দী করা হয়। আরবিতে এদের বলা হয় ‘মারিদ’ (مَرَدَةُ الشَّيَاطِين) অর্থাৎ অবাধ্য ও শক্তিশালী শয়তান। অর্থাৎ সব শয়তান নয়, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।
৪. শবে কদরের রাতে বিতরের নামায কদরের নামাযের আগে নাকি পরে আদায় করবো?
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিতরের নামাজ রাতের শেষ নামাজ হিসেবে আদায় করা উত্তম।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
“তোমরা রাতের নামাজের শেষটা বিতর দিয়ে শেষ করো।”
— (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
অর্থাৎ, যদি কেউ রাতে তাহাজ্জুদ বা নফল নামাজ পড়ার ইচ্ছা রাখেন, তাহলে সব নামাজ শেষে বিতর আদায় করা উত্তম।
৫. লাইলাতুল কদর কিভাবে কাটাতে হবে?
লাইলাতুল কদর বা শবে কদর ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন—
“লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”
— (সূরা আল-কদর: ৩)
এই রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই মুসলমানদের উচিত এই রাতটি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি দোয়া করা, জিকির ও ইস্তিগফার করা, দান-সদকা করা, পরিবারকে ইবাদতের জন্য জাগানো
