বড়দিনের বাজার ঘিরে লিসবনে বিরোধ, রোসিও ছাড়তে নারাজ আবাসন আন্দোলনকারীরা

france-migrant-delivery-workers-safety

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের রোসিও স্কয়ারে আবাসনের দাবিতে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়েছে। বড়দিনের বাজার আয়োজনের জন্য তাঁদের অন্যত্র সরে যেতে বলেছেন মেয়র কার্লোস মোয়েদাস। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আবাসন অধিকারকর্মী রেনাতা কামব্রা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাক্ষরিত নির্দেশে মেয়র আন্দোলনকারীদের তিনটি বিকল্প স্থানের একটিতে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন। স্থানগুলো হলো লার্গো দে সাঁও দোমিঙ্গোস, মার্তিম মনিজ স্কয়ার ও রেস্তোরাদোরেস। পর্তুগালের জননিরাপত্তা পুলিশ পিএসপির মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোসিওতে প্রায় ১০০ তাঁবু রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট নিয়ে তাঁদের প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা ধরে রাখতে এই ঐতিহাসিক চত্বরেই অবস্থান চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

একই স্থানে বাজার ও বিক্ষোভ নিয়ে আপত্তি পুলিশের

পিএসপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, একই জায়গায় আবাসন আন্দোলনের শিবির ও বড়দিনের বাজার পরিচালনা করা নিরাপত্তার দিক থেকে সমস্যাজনক হতে পারে। ব্যবসায়ী, দর্শনার্থী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল, শব্দ এবং বাজারের বিমা ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রচলিত স্থানেই বড়দিনের বাজার আয়োজনের পক্ষে। তাঁদের মতে, এই আয়োজন শহরের বাইশা এলাকার ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাজার না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

তবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমেও সমাধান খোঁজার আগ্রহ জানিয়েছেন। বাইশা পোম্বালিনা এলাকার ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি মানুয়েল লোপেস বলেছেন, আন্দোলনের দাবি নিয়ে তাঁদের বিরোধ নেই; উদ্বেগ মূলত ব্যবসা ও বাজার আয়োজন ঘিরে।

আদালতের আগের সিদ্ধান্তে কী ছিল

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে লিসবনের প্রশাসনিক আদালতের আগের একটি সিদ্ধান্ত। ওই সিদ্ধান্তে রেনাতা কামব্রাকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে রোসিওতে তাঁবুসহ অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সময়সীমা রাখা হয় ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

তবে আদালতের সিদ্ধান্তটি পুরো চত্বরে অনির্দিষ্টসংখ্যক মানুষের তাঁবু স্থাপনের সাধারণ অনুমতি ছিল না। আদালত বড়দিনের বাজারের সঙ্গে প্রতিবাদ কর্মসূচির সমন্বয় করার কথাও বলেছিলেন।

দুই আয়োজন একই স্থানে রাখা বাস্তবে অসম্ভব হলে কাছাকাছি বা সংলগ্ন বিকল্প জায়গা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই জায়গায় প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা, বক্তব্য পৌঁছানোর সুযোগ ও প্রতীকী গুরুত্ব বজায় থাকতে হবে।

মেয়রের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আবেদন

রেনাতা কামব্রার অভিযোগ, বাজার ও প্রতিবাদ একই জায়গায় রাখা সম্ভব কি না, তা যথাযথভাবে সমাধানের চেষ্টা না করেই সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিটি কাউন্সিল।

তাঁর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে পৌর পুলিশের এক সদস্য রোসিওতে এসে তাঁবু সরানোর নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানান। এরপর মেয়রের নির্দেশ বাতিল এবং তা কার্যকর করা ঠেকাতে আদালতে আবেদন করা হয়।

শনিবারের প্রথম প্রহরে কামব্রা জানান, অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আবেদন জমা দেওয়ায় ওই রাতে মেয়রের নির্দেশের ভিত্তিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তবে এটি মেয়রের নির্দেশ চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ার সমতুল্য নয়; নির্দেশের বৈধতা নিয়ে বিরোধ আদালতেই রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সিটি কাউন্সিল একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে কামব্রার একটি তাঁবু প্রতীকীভাবে রোসিওতে রেখে বাকি প্রতিবাদ কর্মসূচি বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। নগর কর্তৃপক্ষ একে বড়দিনের বাজার ও প্রতিবাদের মধ্যে ভারসাম্য আনার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান

ছয়জন শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ ও নাগরিক ব্যক্তিত্ব মেয়রকে আন্দোলনকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হলে সেটি রোসিওর কাছাকাছি হতে হবে এবং প্রতিবাদের গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

এই আহ্বানে সমর্থন দিয়েছেন সুসানা পেরালতা, লুইস আগুইয়ার-কনরারিয়া, সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য আনা গোমেস, নাগরিক অধিকারকর্মী জোয়াও পাওলো বাতালিয়া, সংবিধান বিশেষজ্ঞ তেরেসা ভিওলান্তে ও আইনজীবী রিকার্দো সা ফেরনান্দেস।

ওয়েব সামিটেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা

আবাসন আন্দোলনকারীরা লিসবনের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি আয়োজন ওয়েব সামিটেও তাঁদের দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার গণসমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

পোর্তোতেও আবাসনের দাবিতে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান বজায় রাখতে সেখানে বড় ত্রিপল ও চারটি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী বাসার সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।