‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রকাশ: গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

Julai jatio Sonod

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। এই সনদে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন, সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর আমূল সংস্কারের সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খসড়া সনদ ইতোমধ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা, মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঐ অভ্যুত্থানে নিহত হন ১,৪০০-এর বেশি নাগরিক, আহত হন প্রায় ২০ হাজার।

রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ
খসড়ায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও বাংলাদেশের জনগণ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাঠামো পায়নি। বরং বিগত দেড় দশক ধরে একচ্ছত্র শাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ, বিচারহীনতা ও দুর্নীতির সহায়কে পরিণত করা হয়েছে।

এ অবস্থার পরিবর্তনে এবং একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থার নির্মাণে এই সনদকে একটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ষষ্ঠ দফা সংস্কার কমিশন ও সুপারিশ
২০২৪ সালের আগস্টে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৭ অক্টোবর গঠিত হয় ছয়টি সংস্কার কমিশন। এগুলো হলো:

  • সংবিধান সংস্কার কমিশন
  • নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন
  • বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
  • জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন
  • পুলিশ সংস্কার কমিশন
  • দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন

কমিশনগুলো ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যার কাজ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা।

আলোচনা ও অংশগ্রহণ
কমিশনের তথ্যমতে, ৩৫টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত প্রদান করে। প্রথম ধাপে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট ৪৪টি বৈঠকে অংশ নেয় ৩২টি দল ও জোট। দ্বিতীয় দফায় আরও ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

এই ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই রচিত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। এটি দেশের শাসন ব্যবস্থা সংস্কারে একটি ঐতিহাসিক ঐকমত্যের প্রতিফলন।

মূল অঙ্গীকার
সনদে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে—

  • সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি পরিবর্তন আনা হবে
  • পরবর্তী সরকার গঠনের দুই বছরের মধ্যে এই সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে
  • বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে
  • ২০২৪ সালের আন্দোলনের তাৎপর্য সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া হবে

সনদের ‘ঐকমত্যে উপনীত হওয়ার বিষয়সমূহ’ অংশটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার শেষে এই অংশ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।