৪২০ আশ্রয়প্রার্থী না নিতে ইউরোপকে ৮.৪ মিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে পর্তুগাল

Thousands protest against immigration in Portugal

ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি যৌথ উদ্যোগের আওতায় ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ না করার বিনিময়ে ৮.৪ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্তুগিজ সরকার। এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই দেশটিতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে ২০২৫ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ (PSP)।

পুলিশের তথ্যমতে, শুধু পোর্তো শহরেই ৫৬টি ‘অবৈধ আবাসস্থল’ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯০০ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছিলেন। এসব বাসস্থানে মারাত্মক অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে PSP। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভিড়, ন্যূনতম স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব, পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং বৈধ ভাড়াচুক্তির অনুপস্থিতি।

২০২৫ সালে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযানে PSP মোট ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বেশিরভাগই ‘পর্তুগালে অনিয়মিতভাবে অবস্থান’-এর অভিযোগে আটক হন। একই সময়ে পোর্তোর মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬৭টি অপরাধ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ৫১৭টি অভিযানের মাধ্যমে ৫,৩৯৪ জন বিদেশি নাগরিককে যাচাই করা হয়েছে।

এই অভিযানে ১০৬ জন বিদেশিকে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শেঙ্গেন ইনফরমেশন সিস্টেমে (SIS) মামলা বা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

PSP তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধ দমন, সামাজিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্ত এবং অপরাধ প্রতিরোধে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে খারাপ আবাসন ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রিত শ্রমবাজারে প্রবেশে জটিলতার বিষয়গুলোকে অপরাধের ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত বছর এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে পোর্তোর ফরেনারস অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার কন্ট্রোল নিউক্লিয়াস (NECF)-এর মাধ্যমে, যা জাতীয় ফরেনারস অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার ইউনিট (UNEF)-এর সমন্বয়ে কাজ করেছে।

এদিকে, ইউরোপের স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাসের ওপর আশ্রয়প্রার্থীদের চাপ কমাতে নেওয়া ইউরোপীয় উদ্যোগে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পর্তুগাল। তবে পোল্যান্ডের মতো পুরোপুরি অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যান না করে, পর্তুগাল অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।

পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম SIC Notícias জানিয়েছে, সরকার মনে করছে—বর্তমানে আরও আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করলে দেশের আশ্রয়ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সরকার আশ্রয়প্রার্থী না নিয়ে অর্থ পরিশোধকেই তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।