ট্রাম্প প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি তাৎপর্যপূর্ণ টেলিবৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বৈঠকটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অংশ নেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জানা গেছে, আলোচনার শুরুটা ছিল কিছুটা নাটকীয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চলমান ট্রেড নেগোসিয়েশন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের একপর্যায়ে জেমিসন গ্রিয়ার জানতে চান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিচালিত চলমান বাণিজ্য আলোচনার বিষয়ে তারেক রহমান ও বিএনপির অবস্থান কী। উত্তরে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানান, সরকারের করা ট্রেড নেগোসিয়েশনের প্রতি বিএনপির সম্মতি রয়েছে এবং আলোচনার পদ্ধতি বা অগ্রগতি নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।
এই টেলিবৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তবে বৈঠকের বিস্তারিত আলোচনার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিবেচনায় নিলে এই বৈঠকের তাৎপর্য বেশ গভীর। কারণ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই। তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড টিমের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্রেন্ডা লিঞ্চ (অ্যাসিসট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ, সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া), এমিলি অ্যাশবি (ডিরেক্টর ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া), রিক সুইৎজার (ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ), স্যাম মুলোপুলোস (ইউএসটিআর চিফ অব স্টাফ) এবং ডি. আর সেকিঞ্জার (ডেপুটি ইউএসটিআরের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার)।
সব মিলিয়ে, সরকারি কোনো অবস্থান না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনায় তারেক রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
