ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

dr yunus 13th national election-meeting

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন আখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশ পাল্টে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তাই এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতেই হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

বৈঠকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এনসিপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাতে হবে। সরকার তার এখতিয়ারের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে এবং কেউ যেন আইন অমান্য করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এটি দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন এবং দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন—সুতরাং সুষ্ঠু হওয়াটাই একমাত্র বিকল্প।

তিনি আরও জানান, জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সব কার্যক্রম মনিটর করা হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার আইনসম্মতভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে বোঝানো হচ্ছে কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন এবং এতে কী পরিবর্তন আসবে। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলসহ সবার। এজন্য সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।