পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ফলাফল দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেন্দ্র-ডানপন্থী ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (PSD/CDS-PP) কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দলটির প্রার্থী লুইস মার্কেস মেন্দেস মাত্র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ভরাডুবির মুখে পড়েন।
এই নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে—পর্তুগাল আবারও কার্যত দুই-দলীয় রাজনীতিতে ফিরে গেছে। তবে এবার ঐতিহ্যবাহী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (PSD) বনাম সোশ্যালিস্ট পার্টি (PS)-এর জায়গা দখল করেছে কট্টর ডানপন্থী চেগা (Chega) দল এবং মধ্য-বামপন্থী PS।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক ইস্যুতে দেশটি এখন গভীরভাবে বিভক্ত। একদিকে রয়েছে অভিবাসনবিরোধী নীতি, কঠোর অপরাধ দমন ব্যবস্থা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, রাষ্ট্রীয় খাত সংকোচন, বেসরকারিকরণ এবং তথাকথিত ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ রক্ষার দাবিতে সোচ্চার চেগা। অন্যদিকে শ্রমিক অধিকার, শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, সরকারি সেবা সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া সোশ্যালিস্ট পার্টি।
প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, PS–সমর্থিত প্রার্থী আন্তোনিও জোসে সেগুরো প্রায় ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চেগা দলের নেতা আন্দ্রে ভেন্তুরা, যিনি পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এই দুই প্রার্থীর মধ্যে রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই ফলাফল সোশ্যালিস্ট পার্টির জন্যও উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০০১ সালে জর্জে সাম্পাইওর পর এটিই কোনো সোশ্যালিস্ট প্রার্থীর সেরা ফল বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর সেগুরো বলেন, “আমি সব পর্তুগিজ নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হতে চাই। ভয়কে পরাজিত করে আশার জন্ম দেওয়ার সময় এসেছে।” তিনি চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে আন্দ্রে ভেন্তুরা দাবি করেন, তিনি এখন পর্তুগালের ‘অ-সোশ্যালিস্ট ডানপন্থী রাজনীতির’ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিবাসনকে ‘অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “পর্তুগাল আমাদের।” তার প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল অভিবাসন কমানো এবং রোমা (জিপসি) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই ফলাফলকে ‘অপ্রত্যাশিত’ আখ্যা দিয়ে বলছে, এটি ইউরোপজুড়ে চরম ডানপন্থার উত্থান এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনআস্থার সংকটের আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।
