বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইলের দরুন-চরজানা বাইপাস সংলগ্ন বিশাল নির্বাচনী জনসভায় দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে যারা বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের সেই দুঃশাসনের চিরস্থায়ী অবসান ঘটাতে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটে রাজপথ ও ভোটকেন্দ্রে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শুধুমাত্র একটি নির্বাচন নয়, এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভাগ্য ও অধিকার পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত দিন। তিনি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, ভোটের দিন কোনো ধরণের জালিয়াতি বা ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ভোট দেওয়ার পরও দায়িত্ব শেষ নয়, ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের তিনি বলেন, সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটের আমানত রক্ষা করতে হবে।
টাঙ্গাইলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে তিনি একগুচ্ছ স্বপ্নদর্শী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তার বক্তব্যে বলা হয়, টাঙ্গাইল শাড়ি জাতীয় অহংকারের প্রতীক। গার্মেন্টস পণ্যের মতো এই শাড়ি বিশ্ববাজারে সরাসরি রফতানি করার উদ্যোগ নেবে বিএনপি। এছাড়া টাঙ্গাইলকে পরিকল্পিত শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প ও আনারস চাষিদের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে গৃহিণীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা এবং কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য আলেম-ওলামা, খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মগুরুদের সরকারি বিশেষ সম্মান দেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, “এ দেশ কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক একমাত্র জনগণ। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আপনার ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।”
