বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের যুবক-যুবতীরা একটি স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এক শ্রেণির মানুষ সেই তরুণদের অপদস্থ ও অসম্মান করেছে এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিতেও চায়নি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামের আয়োজনে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একসময় যারা জুলাইকে মানতে চায়নি, তারাই পরে বলতে শুরু করেছে—এই জুলাই বাংলাদেশ, বাংলাদেশই জুলাই। আবার কখনো বলে তারা জুলাইয়ের মাস্টারমাইন্ড। জুলাইকে সম্মান করার অর্থ চাঁদাবাজি করা নয়, দুর্নীতি করা নয়, নিরীহ মানুষের জমি দখল করা নয় কিংবা মামলা বাণিজ্য করা নয়। জুলাই চেতনার সঙ্গে এসব অপরাধ কোনোভাবেই যায় না।”
তিনি বলেন, জুলাইয়ের নামে যদি কারও মায়ের গায়ে হাত তোলা হয়, সেটিও জুলাই চেতনার পরিপন্থী। প্রকৃত জুলাই মানে ন্যায়বিচার, সততা ও মানুষের সম্মান রক্ষা।
জামায়াত আমির আরও বলেন, “আমরা সামনে এগোতে চাই, কিন্তু একটি দল আমাদের সামনে এগোতে দিতে চায় না। জুলাই সংস্কার প্রস্তাবে গণভোটের কথা বললে তারা প্রশ্ন তোলে—গণভোট আবার কী? পরে চাপের মুখে মানলেও এখন আবার গণভোট মানতে চায় না।”
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ যখন জানতে চেয়েছিল তারা নতুন বাংলাদেশ চায় নাকি ফ্যাসিবাদী বাংলাদেশ চায়, তখন বাধ্য হয়ে তারা ‘হা’ ভোটের পক্ষে কথা বলা শুরু করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই না হলে ২৬-এর নির্বাচনই বা কিসের? জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে। মা-বোনদের ইজ্জত প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ থাকবে না। শেয়ারবাজার লুণ্ঠন ও ঘরে ঘরে চাঁদার নামে ডাকাতি বন্ধ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে মানুষ সম্মানের সঙ্গে ঘরে ফিরতে পারবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটে ‘হা’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হা’ ভোটের জয় হলে আগামী দিনে আধিপত্যমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
