ঘূর্ণিঝড় ‘ক্রিস্টিন’–এর আঘাতে পর্তুগালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। সরকারের মন্ত্রীরা যখন ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ‘পরবর্তী পদক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে সরকারের অপ্রস্তুতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা।
পর্তুগালের প্রভাবশালী দৈনিক Correio da Manhã–এর সমাজ সম্পাদক সের্জিও এ ভিতোরিনো লেখেন, ঝড়টি আগেই ভালোভাবে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল এবং এর শক্তি সম্পর্কেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ছিল। তবুও সরকার কার্যকর প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়,
“ক্রিস্টিনের সময় সরকার ধরা পড়েছে প্যান্ট নামানো অবস্থায়। ঘটনার পর বিভ্রান্তি, আত্মপ্রচারমূলক ভিডিও এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিমানে শোক প্রকাশের সফর—এসব শক্তি যদি আগেই কাজে লাগানো হতো, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব ছিল।”
উল্লেখ্য, ঝড়ের সময় সরকারের এক আত্মপ্রচারমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে প্রেসিডেন্সির মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাঁও আমারো–কে ফোনে কথা বলতে, বার্তা পাঠাতে এবং নাটকীয় সংগীতের সঙ্গে উৎকণ্ঠিত ভঙ্গিতে দেখানো হয়। জনরোষ শুরু হতেই ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়, যা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের ‘নিজেদের গোল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভিতোরিনো আরও বলেন, “পরিকল্পনা ও প্রতিরোধ—এই দুই বিষয় আবারও অনুপস্থিত ছিল।” তিনি স্বরাষ্ট্র প্রশাসন মন্ত্রীর ‘শেখার প্রক্রিয়া’কে তুলনা করেছেন “একটি মৃতদেহের ইসিজি”-র সঙ্গে, যা কার্যত অচল অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
আজ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, তাতে বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না। হাজারো বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ নেই, অনেক এলাকায় পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে লুটপাট চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
Correio da Manhã–এর নির্বাহী পরিচালক পাউলো জোয়াো সান্তোস লেখেন,
“পর্তুগাল আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশটি প্রস্তুত ছিল না—এটা নতুন কিছু নয়। বনভূমির আগুন হোক বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়, একই চিত্র বারবার দেখা যায়। গবেষণা হয়, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলায় না।”
তিনি সরকারের প্রতিক্রিয়াকে তুলনা করেছেন এমন এক যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে, যেখানে সেনাবাহিনী ব্যারাকেই বসে থাকে।
সকাল ১০টা থেকে মন্ত্রিসভা ‘সংকট ব্যবস্থাপনা বৈঠক’-এ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে—এই বক্তব্য কি সত্যিই ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি এটি আরেকটি আনুষ্ঠানিক আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
