রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো রোজা রাখা। রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়—এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের একটি বিশেষ মাধ্যম।
রোজা সঠিকভাবে আদায় করতে হলে সঠিক নিয়ত এবং ইফতারের সময় দোয়া জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
রোজার নিয়ত কী?
নিয়ত অর্থ হলো—মনের ইচ্ছা বা সংকল্প করা। ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের শুরুতেই নিয়ত করা জরুরি। রোজার ক্ষেত্রেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্পই হলো নিয়ত।
অনেকেই মনে করেন নিয়ত অবশ্যই মুখে বলতে হবে—কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মনে মনে নিয়ত করলেই যথেষ্ট। তবে শেখার সুবিধার জন্য মুখে বলা যেতে পারে।
নিয়ত করার সময়
- সেহরির সময় বা ফজরের আগে নিয়ত করা উত্তম
- রাতেই পরদিনের রোজার নিয়ত করা যায়
- নফল রোজার ক্ষেত্রে দিনের কিছু সময় পর্যন্ত নিয়ত করা সম্ভব (যদি কিছু না খাওয়া হয়)
রোজার নিয়ত (আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ)
আরবি নিয়ত
نَوَيْتُ أَنْ أَصُوْمَ غَدًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لِلّٰهِ تَعَالٰى
বাংলা উচ্চারণ
নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
ইফতারের গুরুত্ব ও সুন্নত
ইফতার হলো সারাদিন রোজা রাখার পর নির্ধারিত সময়ে রোজা ভঙ্গ করা। ইসলামে ইফতার দ্রুত করার নির্দেশ রয়েছে।
ইফতারের সুন্নত
- আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা
- খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা
- ইফতারের আগে দোয়া করা
- অপচয় ও অতিরিক্ত খাবার পরিহার করা
- অন্যকে ইফতার করানো (বড় সওয়াবের কাজ)
ইফতারের দোয়া (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ)
আরবি দোয়া
اللّٰهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর ভরসা করেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করলাম।
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত—তাই নিজের জন্য, পরিবার ও উম্মাহর জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
রোজা ও ইফতার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
- ভুলে কিছু খেলে রোজা ভাঙবে না
- ইচ্ছাকৃতভাবে খেলে বা পান করলে রোজা ভেঙে যাবে
- নিয়ত ছাড়া রোজা সহিহ হবে না
- ইফতারে অতিরিক্ত দেরি করা সুন্নত নয়
- অযথা সময় নষ্ট বা খারাপ কাজে লিপ্ত হলে রোজার সওয়াব কমে যায়
রোজা শুধু একটি ধর্মীয় নিয়ম নয়—এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ। সঠিক নিয়ত ও ইফতারের দোয়া জানা থাকলে রোজা আরও সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা যায়। আসুন, আমরা সবাই রমজানের প্রতিটি দিন সঠিক নিয়মে রোজা রাখি, বেশি বেশি দোয়া করি এবং আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করি।
