ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ সরগরম। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, গণতন্ত্রের চর্চা নিয়ে বিতর্ক এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে অনেকেই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিযোগিতা নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন ও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পথনকশা নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু প্রাধান্য পাবে। এর মধ্যে রয়েছে— অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার, রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার, দুর্নীতি দমন, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের জীবনমান উন্নয়ন। ফলে এই নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতীক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা নয়; বরং নাগরিক জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটাররা এমন প্রার্থী ও দলকে প্রাধান্য দিতে পারেন যারা সুষ্ঠু নির্বাচন, শক্তিশালী সংসদ এবং জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট অঙ্গীকার উপস্থাপন করবে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দুর্নীতির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে বড় চাপ তৈরি করেছে। এ কারণে দুর্নীতি দমনে কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তব উদ্যোগও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়— রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতেও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ফলে যেসব দল সুস্পষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরতে পারবে, তারা সচেতন ভোটারদের সমর্থন পেতে এগিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
