পর্তুগালে “পুরো দেশজুড়ে হঠাৎ পুলিশি অভিযান” চলছে—এমন দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্টে অনেক প্রবাসী আতঙ্কিত হচ্ছেন, আবার কেউ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি গুজবের মতো করে ছড়ানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পর্তুগালজুড়ে কোনো জরুরি অবস্থা বা বিশেষ জাতীয় অভিযান ঘোষণার নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিয়মিত পুলিশি চেকিং ও অভিবাসন সংক্রান্ত যাচাই কার্যক্রম সময় সময় বাড়ানো হয়ে থাকে, যা দেশের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমেরই অংশ।
পর্তুগালে বিভিন্ন সময় পুলিশ বাহিনী, বিশেষ করে Polícia de Segurança Pública (পিএসপি) এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রুটিন অপারেশন পরিচালনা করে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—রাস্তায় পরিচয়পত্র যাচাই, কর্মস্থলে বৈধতা পরীক্ষা, নির্দিষ্ট এলাকায় তল্লাশি এবং অবৈধ অবস্থান বা ভুয়া কাগজপত্র শনাক্তকরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের চেকিং নতুন কিছু নয় এবং এটি আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক অংশ। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পর্তুগালে বসবাস বা কর্মরত ব্যক্তিদের বাইরে বের হওয়ার সময় রেসিডেন্স কার্ড, পাসপোর্ট বা তার কপি, বৈধ ভিসা বা লিগ্যাল স্ট্যাটাসের প্রমাণপত্র, অথবা চলমান প্রসেসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ চেকিংয়ের মুখোমুখি হলে শান্তভাবে সহযোগিতা করতে এবং অপ্রয়োজনীয় তর্কে না জড়াতে বলা হয়েছে।
এদিকে প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত বা ভীতিকর পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত। নিয়মিত চেকিং মানেই বড় ধরনের অভিযান নয়—এ বিষয়টি সবার মনে রাখা জরুরি।
প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সচেতন থাকুন, সঠিক তথ্য জানুন এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
