ইইউতে অভিবাসন নীতি কঠোর, আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর অনুমোদন

eu migration policy safe-country-list-bangladesh-asylum

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। মধ্য-ডানপন্থী ও অতি-ডানপন্থী ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমইপি) সমর্থনে পাস হওয়া নতুন আইনে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অফশোর প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশে’ পাঠানোর পথ সহজ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম আগামী জুন থেকে কার্যকর হবে।

নতুন আইনের আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের এমন দেশেও পাঠানো যাবে, যেসব দেশের মধ্য দিয়ে তারা কখনো ভ্রমণ করেননি। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্ত ইতালির সঙ্গে আলবেনিয়ার অভিবাসন চুক্তি এবং নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে উগান্ডার চুক্তিকে সমর্থন দিয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে নির্দিষ্ট দেশে পাঠানো বা নির্বাসনের সুযোগ তৈরি হবে।

পৃথক আরেকটি ভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘নিরাপদ দেশের তালিকা’ অনুমোদন করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশসহ কলম্বিয়া, মিশর, ভারত, কসোভো, মরক্কো, তিউনিসিয়া এবং জর্জিয়া-তুরস্কসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন দ্রুত-ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতির ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আশ্রয় পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার হবে।

এদিকে তিউনিসিয়াকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অভিযোগ রয়েছে, দেশটিতে রাষ্ট্রপতি কাইস সাইদ–এর শাসনামলে বিরোধী নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং অভিবাসীদের মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ৩৯টি আন্তর্জাতিক এনজিওর একটি জোট জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তে তিউনিসিয়ার নাগরিকরা আশ্রয়ের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

ইতালির এমপি আলেসান্দ্রো সিরিয়ানি বলেছেন, নতুন আইন ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।