জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বহুল আলোচিত এই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (দুপুর ১২টা) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ১০ বছর এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও কয়েকজনকে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছে এবং ২৪ জন এখনও পলাতক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলিতে গুরুতর আহত হন আবু সাঈদ। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, প্রথমে এএসআই আমির হোসেন গুলি করেন এবং পরে কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় পরপর গুলি চালান, যা আবু সাঈদের মৃত্যুর কারণ হয়। এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী তাওহিদুর হক গুরুতর আহত হন।
চলতি বছরের ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে অবশেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
এই রায়কে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
