বাংলাদেশ ১১ রানে জিতল, পাকিস্তানকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়

bangladesh vs pakistan 2026

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়েও শুরুতে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় মেহেদি হাসান মিরাজের দল।

মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২৯০ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ২৭৯ রানে অলআউট হয়।

এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জয়ের রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে শেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।

পাকিস্তানের শুরুতেই ধাক্কা

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানে প্রথম তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) ফেরান তাসকিন।

লড়াই করেন সালমান আগা

চাপে পড়া দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে বড় জুটি গড়তে পারেননি তারা। ঘুরি ২৯ ও সামাদ ৩৪ রান করে আউট হন।

এরপর দলকে টানতে থাকেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। দুজনের ৭৯ রানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরায়। মাসুদ ৩৮ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হন।

এরপর ফাহিম আশরাফও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাসকিন আহমেদের বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি।

শতক করেও দলকে জেতাতে পারলেন না সালমান

সালমান আগা এরপর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। অর্ধশতকের পর তুলে নেন দারুণ একটি শতকও। তবে শেষ পর্যন্ত ১০৬ রান করে তাসকিনের বলে আউট হন তিনি।

শেষদিকে শাহিন আফ্রিদি ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তাতে লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ২৭৯ রানেই থামে।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪টি উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান নেন ৩টি। নাহিদ রানা ২টি এবং রিশাদ হোসেন একটি উইকেট পান।

তানজিদ তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরি

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।

বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ১০৫ রান আসে। সাইফ হাসান ৩৬ রান করে আউট হন। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৭ রান।

এরপর দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ৯৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১০৭ রান করে আউট হন তিনি।

চতুর্থ উইকেটে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় ৬৮ রানের জুটি গড়েন। লিটন ৪১ রান করেন। অপরাজিত থাকেন হৃদয় ৪৮ রান করে। আফিফ হোসেন অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আবরার ও শাহিন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট পান।