পৃথিবীতে সংঘটিত ভূমিকম্প, ঝড়-তুফান, বজ্রপাতসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মহান আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তির নিদর্শন। ইসলাম মানুষকে এসব পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং বেশি বেশি দোয়া করার শিক্ষা দেয়। মানবজাতির জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে মহান আল্লাহ নাজিল করেছেন মহাগ্রন্থ আল কুরআন, যেখানে মানুষের জীবন পরিচালনার সব দিকনির্দেশনা রয়েছে।
মানবজাতির শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে যেকোনো বিপদ-আপদ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে এবং বিশেষ কিছু দোয়া পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলাম প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর সতর্কবার্তা, পরীক্ষা এবং তাঁর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় দেখা দেয় মানুষের কৃতকর্মের কারণে, যাতে তিনি তাদের কিছু কর্মের ফল আস্বাদন করান—যেন তারা ফিরে আসে।” — (সূরা রূম: ৪১)
আরও বলা হয়েছে— “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব।” — (সূরা বাকারা: ১৫৫)
রাসূল (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, কোনো আকস্মিক বিপদ তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।” — (সুনান আবু দাউদ: ৫০৮৮, তিরমিজি: ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৯)
উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়াহুয়া সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ভূমিকম্পের সময় পড়ার জিকির
ভূমিকম্পের সময় মাটির দিকে বা নিচের দিকে তাকিয়ে পড়তে বলা হয়েছে— “আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা শারিকালাহু, ফাবি আইয়্যে আ’লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।”
ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ জিকির পাঠ করা যেতে পারে।
তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা
বিপদের সময় বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উত্তম।
দোয়া:
আন্তা ওয়ালিয়্যুনা ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা, ওয়া আন্তা খইরুল গাফিরিন।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রক্ষক—আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। — (সূরা আরাফ: ১৫৫)
নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় নেওয়া
রাসূল (সা.) বিপদের সময় নামাজ আদায় করতেন। হাদিসে এসেছে— “রাসূল (সা.) কোনো দুশ্চিন্তাজনক বিষয় ঘটলে নামাজে দাঁড়াতেন।” — সুনান আবু দাউদ: ১৩১৯
ভূমিকম্প বা যেকোনো দুর্যোগের সময় ইসলামের শিক্ষা হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা। রাসূল (সা.) শেখানো দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর রহমত ও হেফাজত লাভের আশা করা যায়।
