বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও সংগঠনবিরোধী বক্তব্য এবং কার্যকলাপের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও পরে ‘ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন’—এমন অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হাসনাত আবদুল্লাহ।
আপিল শুনানিতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং সর্বশেষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করলেও চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। ফলে নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।
এরপর কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানায়। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বিতর্কিত বক্তব্য দেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
ওই সভায় তিনি বলেন, “যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে সব ছারখার করে দেব।”
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে উল্লেখ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
