বিপিএলে প্রথমবার বাবা–ছেলে এক দলে, নোয়াখালী এক্সপ্রেসে নবী ও ইসাখিল

mohammad nabi son BPL

টেবিলের তলানিতে থাকা দুই দল—নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও ঢাকা ক্যাপিটালসের ম্যাচটি কাগজে–কলমে খুব একটা উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু সেই ম্যাচই বদলে গেল এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক গল্পে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ৪১ রানের জয়ের চেয়েও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল বাবা–ছেলের একসঙ্গে মাঠে নামার বিরল ঘটনা।

ম্যাচ শুরুর আগে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী অভিষেক ক্যাপ পরিয়ে দেন এক তরুণ ক্রিকেটারকে। দৃশ্যটি বিশেষ হয়ে ওঠে তখনই, যখন জানা যায়—এই অভিষিক্ত ক্রিকেটার নবীর ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ইসাখিল। ৪১ বছর বয়সী বাবার হাত থেকে ছেলের অভিষেক ক্যাপ নেওয়ার মুহূর্তটি বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম।

বাবা–ছেলে একসঙ্গে মাঠে নামার ঘটনা ক্রিকেটে একেবারে নতুন না হলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এমন দৃশ্য এবারই প্রথম দেখা গেল। এর আগে আফগানিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে নবী ও ইসাখিল প্রতিপক্ষ হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেললেও একই দলে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। সেই অভিজ্ঞতাই হলো এই ম্যাচে।

ম্যাচে ওপেনার হিসেবে নামা ইসাখিল শুরু থেকেই ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। সৌম্য সরকারের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১০১ রান। সৌম্য ২৫ বলে ৪৮ রান করে আউট হওয়ার পর বাবার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৩০ বলে ৫৩ রানের কার্যকর জুটি। বাবা–ছেলের এই ব্যাটিং জুটি নোয়াখালীকে এনে দেয় ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহ।

ইনিংসের মূল নায়ক ছিলেন ইসাখিল নিজেই। ৬০ বল খেলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন তিনি।

১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালস গুটিয়ে যায় ১৪৩ রানে। ১০ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় দলটি। শামীম হোসেন ১৬ বলে ২৯, মিঠুন ৩১ বলে ৩৩ এবং সাইফউদ্দিন ২০ বলে ৩৪ রান করলেও দলকে জেতাতে পারেননি কেউই।

নোয়াখালীর হয়ে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান এবং মোহাম্মদ নবী নিজেও।

টানা ছয় ম্যাচ হেরে আসা নোয়াখালী এক্সপ্রেস টানা দুই ম্যাচ জিতলেও এখনও পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে রয়েছে। সমান পয়েন্ট থাকলেও রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তাদের ঠিক ওপরে অবস্থান করছে ঢাকা ক্যাপিটালস।