আজ থেকে চালু এনইআইআর, অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কেই বন্ধ হবে

illegal mobile handset

ব্যবসায়ীদের আবেদনের পর স্টকে থাকা মোবাইল ফোনের আইএমইআই জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকেই জাতীয় সরঞ্জাম পরিচিতি নিবন্ধন (এনইআইআর) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা এবং জমাকৃত আইএমইআই তালিকাভুক্ত ফোনও সচল থাকবে। তবে নতুনভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া ডিভাইসগুলোই যাচাইয়ের আওতায় আসবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা ব্যক্তিগত ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুইটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এসব ফোন নিবন্ধনের জন্য তিন মাস সময় পাবেন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানান, উপদেষ্টা পরিষদ যদি মোবাইল আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এনইআইআর বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে এবং বাজারে ফোনের দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর গ্রে মার্কেটের ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলা হলেও বিটিআরসি জানায়, এ বিষয়ে কমিশন আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি।

বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এনইআইআর চালু করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই মিলিয়ে ডিভাইস শনাক্ত করা হবে। তবে কল বা মেসেজ রেকর্ড করার কোনো সক্ষমতা এই সিস্টেমের নেই বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

তবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকার কারণে নজরদারি ও তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সাইবার নিরাপত্তা দুর্বল হলে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে গোপনীয়তা সুরক্ষা ও হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান থাকবে।

উল্লেখ্য, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।