ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু করল বুলগেরিয়া

Bulgaria digital nomad visa

২০২৫ সালে শেঙেন জোনে যুক্ত হওয়ার পর বিদেশিদের জন্য একের পর এক সুযোগ-সুবিধা চালু করছে পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়া। উন্নত জীবনযাত্রার মান এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় কম জীবনযাপনের খরচের কারণে দেশটি এখন অনেক বিদেশির কাছেই আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দেশটি ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু করেছে। মূলত বিদেশি দূরবর্তী কর্মী (রিমোট ওয়ার্কার) এবং ফ্রিল্যান্সারদের আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বুলগেরিয়া সরকার।

নতুন ভিসা নীতিমালার আওতায়, এমন কর্মীরা আবেদন করতে পারবেন যারা দূরবর্তী স্থান থেকে কাজ করেন এবং যাদের প্রতিষ্ঠান বুলগেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEA) বা সুইজারল্যান্ডে নিবন্ধিত নয়। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার বা স্বাধীন পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে—ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার জন্য আবেদনের আগে অন্তত এক বছর ধরে বুলগেরিয়ার বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেবা প্রদান করতে হবে।

ভিসার জন্য আবেদনকারীকে বাৎসরিক ন্যূনতম ৩১ হাজার ইউরো আয় প্রমাণ করতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে আবেদনকারীকে নিজ দেশে অবস্থিত বুলগেরিয়ার দূতাবাস বা কনসুলেট থেকে টাইপ ডি ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এই ভিসা প্রদান করা হয়।

বুলগেরিয়াতে প্রবেশের পর প্রার্থীকে ১৪ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময় আবাসন ব্যবস্থার প্রমাণ (যেমন বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র, হোটেল বুকিং অথবা নিজের মালিকানাধীন বাড়ির কাগজপত্র), নিজ দেশ থেকে নেওয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, বুলগেরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রয়োজনে সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

এছাড়া বুলগেরিয়াতে অবস্থানকালীন সময়ের জন্য স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণপত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা শেঙেন অঞ্চলের সব দেশে কার্যকর হতে হবে।

সব কাগজপত্র যাচাই শেষে ডিজিটাল নোম্যাডদের পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।

প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি প্রদান করবে বুলগেরিয়া সরকার। নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই অনুমতি পরবর্তী বছর নবায়নের সুযোগ থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে শেঙেন জোনে যুক্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ইউরো মুদ্রাব্যবস্থাও চালু করেছে বুলগেরিয়া। পাশাপাশি দেশটির শ্রমবাজারে ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরেই বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে সরকার। ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

এই ভিসা মূলত ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের জন্য, যারা দূরবর্তী স্থান থেকে কাজ করেন এবং বুলগেরিয়ার বাইরে থেকে আয় করেন। এমন কর্মীদের জন্যই ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুলগেরিয়া সরকার।