ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডা সরকার ফুটবল ভক্তদের ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, শুধুমাত্র খেলা দেখার অজুহাতে কেউ যেন কানাডায় এসে আশ্রয় (Asylum) দাবি করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি নজরদারি।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, যেসব দর্শকের ক্ষেত্রে মনে হবে তারা টুর্নামেন্ট শেষে নিজ দেশে ফিরে যাবেন না, তাদের ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে বা কানাডার সীমান্তে প্রবেশের সময় ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
আগামী জুন ও জুলাই মাসে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলোতে কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, ঘানা, পানামা, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, মিশর, আইভরি কোস্ট ও সেনেগালের মতো দেশগুলোর জাতীয় দল অংশ নেবে।
IRCC স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ বা বড় কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়া শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার কোনো পথ নয়। অতীতেও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে আশ্রয় আবেদনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালের ভ্যাঙ্কুভার শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিতে এসে ২২ জন আশ্রয় আবেদন করেছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন তথাকথিত “অলিম্পিক পরিবার”-এর সদস্য।
সম্প্রতি এরিত্রিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে তাদের পুরুষ দল প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ খেলোয়াড়রা বিদেশ সফরের সময় আশ্রয় চাইতে পারেন—এমন আশঙ্কা ছিল।
এদিকে, ইমিগ্রেশন মন্ত্রী লেনা মেটলেজি দিয়াব বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের জন্য সাময়িকভাবে ওয়ার্ক পারমিটের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছেন। ফিফা আমন্ত্রিত খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও মেডিকেল স্টাফরা ভিজিটর ভিসায় কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন।
IRCC দর্শকদের আগেভাগে ভিজিটর ভিসার জন্য আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রবেশের আশ্বাস দেওয়া অসাধু এজেন্টদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র ইসাবেল ডুবোয়া বলেন, “আমরা ভিসা আবেদন এবং কানাডায় প্রবেশ—উভয় পর্যায়েই যাচাই করব, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা প্রকৃত দর্শক।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বকাপের মতো ইভেন্ট আশ্রয় চাওয়ার কোনো মাধ্যম নয়। যারা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করবেন, তারা ভবিষ্যতে ভিসা বা অভিবাসন আবেদনে সমস্যায় পড়তে পারেন।”
টরন্টোর অভিবাসন আইনজীবী স্টিফেন গ্রিন জানান, বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের ক্ষেত্রেও সাধারণ পর্যটকদের মতোই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে। আবেদনকারীর নিজ দেশে ফেরার শক্ত সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক আছে কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর কানাডায় আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। ভিসা যাচাই কঠোর করা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য প্রবেশ নিয়ম কড়াকড়ি করার ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
