ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, ইসির নির্দেশনা জারি

mobile phone ban voting day

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট নয় এমন কেউ মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইতোমধ্যে চিঠিটি বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি কেবল নির্দিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি পাবেন—

  • ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার
  • ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ
  • ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার/ভিডিপি-এর সর্বোচ্চ দুইজন সদস্য

এ ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত পরিসরের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলবে। এবারের নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মোট কক্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি।

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী গোপন বুথের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।