ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ডিজিটাল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (EES) শুক্রবার থেকে পূর্ণমাত্রায় চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশকারী অ-ইইউ নাগরিকদের পাসপোর্ট স্ক্যানের পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও মুখের ছবি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিস্টেমটি ২৯টি শেনজেনভুক্ত দেশে কার্যকর হবে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে সাধারণত কোনো চেকিং থাকে না। নতুন EES চালুর মাধ্যমে প্রচলিত পাসপোর্টে সিল দেওয়ার পদ্ধতি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে এবং ডিজিটাল রেকর্ডের মাধ্যমে যাত্রীদের আগমন ও প্রস্থান তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
তবে পুরো ইউরোপজুড়ে একই দিনে এই সিস্টেম চালু হচ্ছে না। মিলান ও লিসবনের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর এখনো সম্পূর্ণভাবে EES চালু করতে প্রস্তুত নয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ধীরগতির প্রক্রিয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন ছুটির মৌসুমে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের সময় যাত্রীদের বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন করতে হবে, যা তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। পরবর্তী ভ্রমণগুলোতে এই তথ্য যাচাই করা হবে।
ভ্রমণের ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন প্রক্রিয়াও ভিন্ন হবে। বিমান যাত্রীরা গন্তব্য দেশের বিমানবন্দরে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। অন্যদিকে ট্রেন, গাড়ি বা ফেরিতে ভ্রমণকারীদের নির্দিষ্ট কিয়স্ক বা সীমান্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য প্রদান করতে হবে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবিষ্যতে আরও একটি নতুন ভ্রমণ অনুমতি ব্যবস্থা ETIAS চালুর পরিকল্পনা করছে, যা ২০২৬ সালের শেষের দিকে কার্যকর হতে পারে। এই ব্যবস্থায় ভিসামুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ভ্রমণের আগে অনলাইনে অনুমতি নিতে হবে এবং এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে EES একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
