অনিয়মিত পথে ইউরোপে আসা অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোকে ‘জরুরি অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—“ইউরোপই সিদ্ধান্ত নেবে কে বা কারা ইউরোপে আসবেন।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইউরোপীয় কমিশন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি নিয়ে একটি নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এতে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইইউর অভিবাসন কমিশনার মাগনুস ব্রুনার বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট—অনিয়মিত আগমনের সংখ্যা কমানো এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখা।”
তিনি আরও বলেন, “অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে, যা জনগণের আস্থা দুর্বল করে এবং আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণের প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
ইইউর ওপর অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসীর আগমন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে “একটি নতুন অধ্যায়” শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রুনার।
তবে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, এটি একটি “ত্রুটিপূর্ণ” নীতি এবং তথাকথিত ‘তৃতীয় দেশগুলোর’ ওপর নির্ভরতা ইইউকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় ইউরোপীয় কমিশনের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হেন্না ভিরকুনেন বলেন, “অনিয়মিত আগমন কমে আসার যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে আইনি পথে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো জরুরি—না হলে সমাজ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি “ন্যায্য ও দৃঢ়” অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলাই এই নীতির লক্ষ্য। এর আওতায় অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচার দমন, আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং ইউরোপের অর্থনীতির জন্য দক্ষ ও মেধাবী কর্মী আকৃষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্যমতে, যাদের ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মাত্র ২৫ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউরোপের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব কেন্দ্রে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে পাঠানোর আগ পর্যন্ত রাখা হবে।
ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত নিতে সহযোগিতা না করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে লিবিয়া, টিউনিশিয়া, মিশর, মরক্কো ও মৌরিতানিয়ার সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে ইইউ।
