জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার নির্ধারিত নতুন সময়সূচির কারণে দেশের খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। টানা কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার আগেই দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখা হচ্ছে, যার ফলে বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত দিনের মোট বিক্রির বড় অংশই হয় সন্ধ্যার পর। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে সেই সময়টুকু পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেচাকেনা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তৈরি পোশাক, জুতা, জুয়েলারি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির পণ্য—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে।
এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং দোকান ভাড়া মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি সরকারের ভ্যাট আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, সকালে ক্রেতা কম থাকায় সেই সময় দোকান বন্ধ রেখে দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি কমানো সম্ভব।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্বালানিসংকটের কারণে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে কিছুটা শিথিল করে রাত ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, এই এক ঘণ্টা বাড়ানোতে খুব বেশি সুফল আসছে না।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় ব্যবসায়ীরা নির্দেশনা পুরোপুরি মানতে পারছেন না। কোথাও কোথাও নির্ধারিত সময়ের পরও দোকান খোলা থাকছে, তবে ক্রেতা উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রি বাড়ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন হলেও তা যেন অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে ভিন্ন সময়সূচি চালু করে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশে খুচরা ব্যবসা খাত দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ। লক্ষ লক্ষ দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কোটি মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি অর্থনীতির গতিশীলতাও বজায় রাখবে।
