বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২ টাকা কমে ১০০ টাকা, কেরোসিনের দাম ২ টাকা কমে ১১২ টাকা, পেট্রোলের দাম ২ টাকা কমে ১১৬ টাকা এবং অকটেনের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। নতুন এ দাম আগামীকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি গত বছরের মার্চ মাস থেকে চালু করেছে সরকার। এই পদ্ধতির আওতায় প্রতি মাসেই নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা প্রধানত কৃষি সেচ, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহার হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের মাধ্যমে।
বিপিসি সূত্র আরও জানায়, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে সাধারণত করপোরেশন লাভ করে থাকে। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আগে নিয়মিতভাবে বিপিসি সমন্বয় করলেও বর্তমানে বিইআরসি প্রতি মাসে তা নির্ধারণ করছে। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বে প্রতি মাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত অনুযায়ী গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা হয়। এই পদ্ধতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমবে এবং বাড়লে দাম বাড়বে।
