আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই প্রজন্ম এবার প্রথমবারের মতো ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে যাচ্ছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ এই নির্বাচনকে নতুন রাষ্ট্র গঠনের সূচনা হিসেবে দেখছে।
দীর্ঘ সময় ধরে অনেক তরুণ কার্যকর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি বলে তাদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে আলাদা উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশফাহ বিনতে লতিফ বলেন, “আমার মা-বাবা বলতেন আগে ভোটের দিন উৎসব হতো। আমরা বড় হয়েছি ভোট ছাড়া বা নিয়ন্ত্রিত ভোট দেখে। এবার আমরা পরিবর্তনের অংশ হয়েছি, তাই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে খুবই উত্তেজিত।”
তরুণদের মধ্যে প্রথাগত দলীয় আনুগত্যের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও স্বচ্ছতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাভারের ভোটার মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা আর কোনো ‘গডফাদার’ বা দুর্নীতিবাজকে সংসদে দেখতে চাই না। প্রার্থী যে দলেরই হোক, তার ট্র্যাক রেকর্ড পরিষ্কার হতে হবে।”
তরুণ ভোটারদের কাছে কর্মসংস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ মিজান জানান, “আমরা এমন এক রাষ্ট্র চাই যেখানে বৈষম্য থাকবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, চাকরির বাজার উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে হবে।”
এছাড়া জুলাই ২০২৪-এর ঘটনাবলি এখনও তরুণদের মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। অনেকেই রাষ্ট্র সংস্কার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন। এক তরুণ অ্যাক্টিভিস্টের ভাষ্য, “সংস্কারমূলক প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।”
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের প্রত্যাশা—স্বচ্ছ রাজনীতি, কার্যকর গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায্য ও সুযোগসমৃদ্ধ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। ফলে এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তরুণদের নতুন ভাবনা ও চাহিদার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
