গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে পালাতে পারবে না: আইনমন্ত্রী

law minister asaduzzaman gum law parliament bangladesh

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের মতো বাংলাদেশের ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং এসব ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না। তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আইনগুলো আরও যুগোপযোগী করে নতুন বিল আনবে।

রোববার (৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু কোনো পরিবারের সদস্য নন, তারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের কাছের মানুষ। তাদের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও একসময় গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে তাকে ‘ডাম্পিং’ করা হয়েছিল। পরে তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন অর্ডিন্যান্স আকারে কার্যকর করা হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কারণ আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর আওতায় ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ হিসেবে গুমের সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু অর্ডিন্যান্সে গুমের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, দুটি আইনের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব যেন না থাকে, সে কারণে যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন আইনের তদন্ত পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বা পরবর্তী সময়ে নতুন বিল আনা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন আইনে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হবে, যাতে কোনোভাবেই অপরাধীরা ছাড় না পায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।