আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তবে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
ভারত ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলেও এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তানকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে।
এমনকি আইসিসি নিজ উদ্যোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সহকারী ও বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে। তিনি সিঙ্গাপুর ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি।
ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেকোনো উপায়ে পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচে খেলাতে রাজি করানোই তার প্রধান দায়িত্ব।
এদিকে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে শুধু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নয়, বড় আর্থিক সংকটে পড়তে পারে আইসিসিও। কারণ, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিসির চার বছরের যে সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে, সেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের কারণেই সম্প্রচার চুক্তির অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলে, তাহলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। সে ক্ষেত্রে তারা চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে আইসিসির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও আর্থিক কাঠামোতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। এখন আইসিসি ও পিসিবির আলোচনার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব।
