ইতালির উত্তরাঞ্চলের শিল্পনগরী ব্রেসিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩৫৫ জন প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিট বা ‘পেরমেসসো দি সোজাউরনো’ বাতিল করেছে পুলিশ। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই অভিযানে অবৈধ বসবাস, ভুয়া আশ্রয় আবেদন, জাল বিয়ের মাধ্যমে কাগজপত্র বৈধ করার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ব্রেসিয়া পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ইতালিতে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে অপরাধের রেকর্ড না থাকলেও বৈধ বসবাসের কাগজপত্র না থাকায় ৫৮ জন প্রবাসীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের সাত দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় ইতালি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে জোরপূর্বক বহিষ্কারের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১৭ জন প্রবাসীকে আটক করে কোনো সময়সীমা না দিয়ে সরাসরি বিমানে তুলে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিকের আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার পর তাকে মিলানের মালপেনসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একইভাবে ইতালিয়ান নারীকে বিয়ের নাটক সাজিয়ে কাগজপত্র বৈধ করার চেষ্টাকালে ২৯ বছর বয়সী এক তিউনিসিয়ান নাগরিককে আটক করা হয়। তদন্তে বিয়েটি সম্পূর্ণ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া মারধরের অভিযোগে এক নাইজেরিয়ান আশ্রয়প্রার্থী নারীর আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা রিফিউজি স্ট্যাটাস বাতিল করে তাকে ইতালি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একই অভিযানে পাকিস্তানি, আলবেনিয়ান ও মলদোভান নাগরিকদের মধ্যেও কয়েকজনকে চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ব্রেসিয়া পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করতে হলে আইন মেনে চলা এবং সঠিক কাগজপত্র সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। অপরাধে জড়িত থাকা বা ভুয়া তথ্য দিয়ে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে।
