লিসবনের মার্টিম মনিজ অভিবাসীদের দুর্দশা: অমানবিক জীবন যাত্রার বাস্তবতা উন্মোচিত

Lisbons substandard housing

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অভিবাসীদের দুর্দশা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও হিস্পানিক অভিবাসীরা ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। অত্যন্ত নিম্নমানের বাসস্থানে গাদাগাদি করে বসবাস, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং উচ্চ ভাড়া দেওয়ার পরও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে হাজারো অভিবাসীকে।

অনেক বাড়িতে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন অভিবাসী একত্রে থাকেন। ছোট ছোট কক্ষগুলোতে ৫-৬ জন করে মানুষ গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হন। অনেক সময় একটি মাত্র বাথরুম ভাগাভাগি করতে হয় ১৫-২০ জনকে। এমনকি কিছু অভিবাসী জানান, তাঁরা মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হন, কারণ ঘরে পর্যাপ্ত বিছানা বা খাট নেই।

বাংলাদেশি অভিবাসী মিস্টার হান্নান বলেন, “আমি একটি ছোট কক্ষে ছয়জনের সঙ্গে থাকি। আমাদের পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই, এমনকি অনেক সময় ঠিকমতো খেতেও পারি না। কিন্তু উচ্চ ভাড়া দিতেই হচ্ছে।”

@ninalopes8120

Repórter Sábado a não perder AMANHÃ-SÁBADO, às 22H30 no NOW Reportagem de Ana Leal, Imagem de Miguel Conceição, Edição de Inês Ferreira e Ana Cardoso…Maravilhoso de se ver…. Como virou Portugal…. 😪😪

♬ som original – ♰⚔⚒Nina ⚒⚔♰ – ♰⚔⚒Nina ⚒⚔♰

অনেক বাড়িওয়ালা অভিবাসীদের সংকটের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বেশি ভাড়া আদায় করছেন। অনেকে এক বাড়ির একাধিক কক্ষ বিভিন্ন জনের কাছে ভাড়া দিয়ে চরম মুনাফা করছেন। অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন দালাল চক্রও সক্রিয় রয়েছে, যারা নতুন আসা অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু যথাযথ বাসস্থানের ব্যবস্থা করছে না।

স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, “অভিবাসীরা কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছেন কিছু অসাধু ব্যক্তির কাছে। তারা সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে এসব কক্ষ ভাড়া দিয়ে চলেছেন।”

কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের এই সংকট সম্পর্কে সচেতন হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। লিসবন সিটি কর্পোরেশনের একজন প্রতিনিধি জানান, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও সংস্থার অভাবে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।”

অপরদিকে, অভিবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, “সরকার যথাযথ পরিদর্শন এবং নীতি বাস্তবায়ন করছে না, ফলে অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত শোষণের শিকার হচ্ছেন।”

অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারের উচিত নিয়মিত পরিদর্শন চালানো, বাড়ির মালিকদের জন্য কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করা এবং অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসীরা লিসবনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু যদি তারা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না পান, তাহলে শ্রমশক্তির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।