চলমান ইসরাইল–ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হয়েছেন—এমন একটি জল্পনা ছড়িয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনের পর। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে প্রতিবেদনে কোনো হামলার নিশ্চিত তথ্য বা সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়নি। বরং কয়েকটি পরোক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুমান করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানোর খবর এবং কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সফর স্থগিত হওয়া—এসব বিষয়কে সন্দেহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথিত একটি ফোনালাপের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও সেই আলাপের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
তাসনিম তাদের প্রতিবেদনে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার-এর একটি দাবি উল্লেখ করেছে। রাশিয়ান মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই দাবিতে বলা হয়, ইরান নেতানিয়াহুর একটি গোপন আশ্রয়স্থলে হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবি কোনো সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি।
প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়েও নেতানিয়াহু সরকারি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ৭ মার্চ তার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। এছাড়া ৬ মার্চ তিনি বিয়ারশেবা শহরে একটি ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন বলে সরকারি তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
দ্য জেরুজালেম পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহু ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ফোনালাপের কথাও প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ঘাটতি বা নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্য উপস্থিতি কমে গেলে তা প্রায়ই গুজব বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেয়।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হওয়ার এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
