স্টর্ম ক্রিস্টিন ও লিওনার্দোর প্রভাবে পর্তুগালে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আলেন্তেজোর আলকাসের দো সাল শহরে পানি দুই মিটার পর্যন্ত উঠে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একে দেশের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বন্যা পরিস্থিতির একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সাদো নদীর তীরবর্তী এই শহরে মৌসুমি বন্যা নতুন কিছু নয়। তবে গত সপ্তাহে স্টর্ম ক্রিস্টিন আঘাত হানার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। কোথাও কোথাও পানির গভীরতা দুই মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, ফলে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে স্কুলগুলো আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পর্তুগালের পরিবেশ সংস্থা এপিএ–এর (APA) প্রধান পিমেন্তা মাচাদো জানিয়েছেন, আলকাসের দো সাল বর্তমানে বন্যা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক এলাকাগুলোর একটি। পরিবেশমন্ত্রী মারিয়া দা গ্রাসা কারভালোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
স্টর্ম লিওনার্দোর প্রভাবে আলগারভ অঞ্চলের বিভিন্ন বাঁধ থেকে পানি ছাড়তে হচ্ছে। স্পেন থেকে আসা পানির কারণে গুয়াদিয়ানা নদীর পানির স্তরও দ্রুত বাড়ছে। এদিকে পানি সম্পদ বিভাগের পরিচালক মারিয়া ফেলিসবিনা কোয়াদ্রাদো জানান, বিশেষ করে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেজো, মন্ডেগো, ডৌরো ও সাদো নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানির উচ্চতা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে কোইমব্রা, ফিগেইরা দা ফোজ, সান্তারেম, পোর্তো, গন্ডোমারসহ বিভিন্ন শহরে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা খারাপ আবহাওয়ায় পর্তুগালের লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বহু বাড়িঘর, ব্যবসা ও কারখানা মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহান্ত পর্যন্ত নিম্নচাপ লিওনার্দো বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখবে। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, যদিও ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে।
