যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়: পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট

Donald Trump Greenland

গ্রিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ হলে তা পর্তুগালের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুজা। তিনি বলেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার পরিপন্থী হলে পর্তুগাল তাতে সম্মতি দেবে না।

লিসবনে একটি অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত সামরিক অভিযানের বিষয়টিও তুলে ধরেন। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

পর্তুগালের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্সেলো বলেন, সরকারের সঙ্গে আগেই এ বিষয়ে তাঁর ঐকমত্য হয়েছে এবং অবস্থান ছিল খুবই স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা। তিনি জানান, শুরু থেকেই পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ সচেতন ছিল যে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান জাতিসংঘ সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে মার্সেলো রেবেলো দে সুজা বলেন, ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তবে পর্তুগাল কখনোই সেখানে সেনা পাঠানোর কথা বলেনি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ন্যাটোর কিছু সদস্য দেশ প্রতিরক্ষামূলক উপস্থিতি চাইতে পারে। তাঁর ভাষায়, “এই উপস্থিতির অর্থ কী? সংহতি। ন্যাটো একটি সংহতির জোট। এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। বাইরের হুমকির বিরুদ্ধে আমরা যদি একসঙ্গে থাকি, তাহলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মোকাবিলাতেও ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।”

তবে পর্তুগালের ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করে দিয়ে মার্সেলো বলেন, “গ্রিনল্যান্ডে এমন কোনো হস্তক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও ন্যাটোর অঙ্গীকারের প্রতি অসম্মান দেখায়—পর্তুগাল তা কোনোভাবেই গ্রহণ বা অনুমোদন করবে না।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একটি সামরিক জোট কীভাবে বাইরে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে, যদি ভেতরে ঐক্য না থাকে। এ সময় তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আরও দৃঢ় ঐক্যের আহ্বান জানান।