পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার রেকর্ড সংখ্যক ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইউরোপজুড়ে বাড়তে থাকা কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির আরেকটি বড় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রাথমিক এক্সিট পোল অনুযায়ী, মধ্য-বামপন্থী প্রার্থী আন্তোনিও হোসে সেগুরো এগিয়ে রয়েছেন। তিনি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরেই রয়েছেন জনতাবাদী দল চেগা’র নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা, যিনি ২০ থেকে ২৪ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। অন্যদিকে লিবারাল ইনিশিয়েটিভ সমর্থিত প্রার্থী কোট্রিম দে ফিগেইরেদোর ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা ১৭ থেকে ২১ শতাংশ।
রোববারের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত ও ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। দিনের শেষ নাগাদ অধিকাংশ ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তি বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসার স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে সাংবিধানিক সীমা পূর্ণ করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসন ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার করেছেন আন্দ্রে ভেনচুরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগালে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে তিনি “অতিরিক্ত অভিবাসন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার স্লোগান ছিল—“পর্তুগাল আমাদের।” ইউরোপীয় কট্টর ডানপন্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এই নেতা দেশজুড়ে বিলবোর্ডে লেখেন—“এটা বাংলাদেশ নয়” এবং “অভিবাসীরা কল্যাণভাতা নিয়ে বসবাস করতে পারবে না।”
এই ধরনের বিলবোর্ডকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে কয়েক মাস পর একটি প্রশাসনিক আদালত ভেনচুরাকে সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেয়। কয়েক বছর আগেও পর্তুগালে প্রকাশ্যে এমন অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য কল্পনাতীত ছিল। তবে বাস্তবতা হলো—শ্রম সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পর্তুগালের অভিবাসীদের প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল হেনরিক গুভেইয়া ই মেলোর কাছ থেকে বড় চ্যালেঞ্জ আসবে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তিনি ১১ থেকে ১৪ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার জন্য তিনি জনসাধারণের প্রশংসা পেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে পর্তুগাল মাত্র তিন বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে, যা ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। দেশকে স্থিতিশীল করা আগামী প্রেসিডেন্টের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
যদিও ভেনচুরা অভিবাসনকে মূল নির্বাচনী ইস্যু বানানোর চেষ্টা করেছেন, ভোটারদের বড় একটি অংশ বেশি উদ্বিগ্ন আবাসন সংকট, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে।
পর্তুগালে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা মূলত আনুষ্ঠানিক ও প্রতীকী। নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রেসিডেন্ট সংসদে পাস হওয়া আইনে ভেটো দিতে পারেন, যদিও সংসদ চাইলে তা বাতিল করতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনে সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ডাক দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে, যা পর্তুগিজ রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ হিসেবে পরিচিত।
