পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজকের আগাম ভোটে অংশ নিতে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি ভোটার। তবে আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মূল ভোটকে ঘিরে নির্বাচনের ফলাফল এখনো অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভোট হবে নির্বাচনের প্রথম ধাপ বা ‘ফার্স্ট ব্যালট’।
সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, সোশ্যালিস্ট পার্টি (PS)-এর প্রার্থী আন্তোনিও জোসে সেগুরো ২০.৮ শতাংশ ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন ইনিসিয়াতিভা লিবারাল-এর প্রার্থী জোয়াও কোট্রিম দে ফিগেইরেদো (২০.১ শতাংশ), চেগা (CHEGA) দলের আন্দ্রে ভেনচুরা (১৯.৮ শতাংশ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক নৌবাহিনী প্রধান হেনরিক গুভেইয়া ই মেলো (১৭.৪ শতাংশ)।
সরকারসমর্থিত ও ক্ষমতাসীন জোটের পছন্দের প্রার্থী লুইস মার্কেস মেন্ডেস বর্তমানে ১৫.৭ শতাংশ ভোট সম্ভাবনা নিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছেন। যদিও তিনি নিজেই দাবি করেছেন, এসব জরিপ বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে না।
নির্বাচনী লড়াইয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্র-ডানপন্থী রাজনীতির প্রায় ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির একটি ঘোষণাপত্র। আশ্চর্যজনকভাবে, তারা নিজ দলের প্রার্থী মার্কেস মেন্ডেসকে নয়, বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হেনরিক গুভেইয়া ই মেলোকে সমর্থন দিয়েছেন। অথচ মেন্ডেস আগেও একাধিকবার দাবি করেছিলেন, ই মেলোর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই পদের জন্য যথেষ্ট নয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, গুভেইয়া ই মেলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভাবমূর্তি, জাতীয় মর্যাদা রক্ষার যোগ্যতা এবং পর্তুগালের ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেতৃত্বের গুণাবলি। সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সমর্থনকারীরা মনে করেন, রাজনীতিতে আস্থা ও আশার যে সংকট তৈরি হয়েছে, গুভেইয়া ই মেলো তার বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে এই সংকট মোকাবিলায় সক্ষম। তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পর্তুগালের প্রয়োজন এমন একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি সাহসী, ইউরোপপন্থী, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য আদাও সিলভা, ইসাবেল মেইরেলেস, মনুয়েলা আগুইয়ার, মনিকা কিন্তেলা, পাওলো মোতা পিন্টো, মাদেইরার সাবেক আঞ্চলিক গভর্নর আলবার্তো জোয়াও জারদিনসহ পিএসডি ও সিডিএস দলের বহু সাবেক মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতা। যা বর্তমান সরকার ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীর জন্য বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
