রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পাশাপাশি বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করবেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন দলের এক শীর্ষ নেতা।
ওই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে যেকোনো সময় পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন মিষ্টি। বৃহস্পতিবারই তা জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বুধবার রাতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে আলোচনায় আসে মিষ্টির নামও। তবে হামলায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, মুখোশ পরা একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। এরপর সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
স্থাপনা ভাঙার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়।
টিবিএসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হামলার আগে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হন। পরে তাঁদের একটি অংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে যায়। হামলার সময় আশপাশে একটি সাদা মাইক্রোবাসের গতিবিধিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
তবে ওই মাইক্রোবাসে মিষ্টির উপস্থিতি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিবিএসকে মিষ্টি বলেছেন, কীভাবে এ ঘটনায় তাঁর নাম এসেছে, তা তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, ২০০৬ সালে ওয়ার্ড কমিশনার থাকাকালে সমিতির নামে জায়গা বরাদ্দের একটি আবেদনপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন। এরপর ওই সমিতির সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক ছিল না।
