শুরু পবিত্র মাহে রমজান, রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার গুরুত্ব

Sehri iftar Ruja ramadan Mubarak

বছর ঘুরে আবারও হাজির পবিত্র মাহে রমজান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে রোজা পালন। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম রোজা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য ফরজ।

রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং তাকওয়া লাভে ধন্য হয়। মহান আল্লাহ রোজার প্রতিদান নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কোরআনে রোজার গুরুত্ব

রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—

“হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।”
— (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

সেহরি ও ইফতারের গুরুত্ব

রমজানের রোজা পালনের জন্য সেহরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) সেহরি গ্রহণ এবং যথাসময়ে ইফতার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলমানদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। (মুসলিম ও নাসাঈ)

রোজার নিয়ত

সেহরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত করা জরুরি।

আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। তুমি তা কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

ইফতারের আগে ইসতেগফার ও দোয়া

ইফতারের আগে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া সওয়াবের কাজ।

ইসতেগফার:
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْم – اَلَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ

ইফতারের সময় দোয়া পড়ে ইফতার করা সুন্নত।

ইফতারের দোয়া:
اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن

অর্থ:
হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের পরের দোয়া

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতারের পর বলতেন—

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ
(আবু দাউদ, মিশকাত)

অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব স্থির হলো।

মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সেহরির পর নিয়ত করা, ইফতারের আগে তাওবা-ইসতেগফার করা, ইফতারের সময় দোয়া পড়া এবং ইফতারের পর শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান করুন—এমন কামনা করা হয়েছে।