পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী কী লাগে, কত টাকা ও ধাপে ধাপে নিয়ম

renew passport cost document list

বিদেশ ভ্রমণ, চাকরি, চিকিৎসা বা শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে করাকে বলা হয় পাসপোর্ট রিনিউ। অনেকেই জানেন না, পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী কী কাগজ লাগে, কত টাকা লাগে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে করতে হয়। এই আর্টিকেলে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

পাসপোর্ট রিনিউ বলতে কী বোঝায়

যখন আপনার বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তখন নতুন মেয়াদের পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াকে পাসপোর্ট রিনিউ বলা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এমআরপি পাসপোর্টের পরিবর্তে ই-পাসপোর্ট (E-Passport) দেওয়া হচ্ছে।

পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী কী লাগে

পাসপোর্ট রিনিউ করতে সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—

  1. পুরনো পাসপোর্টের মূল কপি
  2. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ
    • ১৮ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন
  3. অনলাইন আবেদন ফরম (প্রিন্ট কপি)
  4. অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ
  5. পাসপোর্ট ফি জমার রসিদ
  6. পিতা-মাতার NID কপি (যদি আবেদনকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়)

পাসপোর্ট রিনিউ ফি (কত টাকা লাগে)

বাংলাদেশে পাসপোর্ট রিনিউয়ের ফি নির্ভর করে ডেলিভারি টাইমের ওপর।

৪৮ পেজ ই-পাসপোর্ট (১০ বছর মেয়াদি)

  • নরমাল (২১ কার্যদিবস): প্রায় ৫,৭৫০ টাকা
  • এক্সপ্রেস (৭–১০ কার্যদিবস): প্রায় ৮,০৫০ টাকা
  • সুপার এক্সপ্রেস (২ কার্যদিবস): প্রায় ১০,৩৫০ টাকা

🔹 ৬৪ পেজ পাসপোর্ট নিলে খরচ কিছুটা বেশি হয়।
🔹 ১৮ বছরের নিচে হলে সাধারণত ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হয়।

পাসপোর্ট রিনিউ করার ধাপসমূহ

ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন

e-passport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে “Re-Issue” অপশন নির্বাচন করে আবেদন ফরম পূরণ করুন।

ধাপ ২: ফি পরিশোধ

ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) অথবা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।

ধাপ ৩: অ্যাপয়েন্টমেন্ট

ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট করুন।

ধাপ ৪: পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিতি

নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যান দিন।

ধাপ ৫: পাসপোর্ট সংগ্রহ

এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হলে নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।

পাসপোর্ট রিনিউ করার সময় গুরুত্বপূর্ণ টিপস

পাসপোর্ট রিনিউ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়া। সামান্য ভুল বা অবহেলার কারণে আবেদন বাতিল বা দেরি হতে পারে। তাই রিনিউ করার সময় নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি।

১. মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করুন
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস আগে রিনিউয়ের আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে জরুরি ভ্রমণে সমস্যা হয় না।

২. অনলাইনে তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন
নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা—সব তথ্য পুরনো পাসপোর্ট ও NID অনুযায়ী দিন। বানান বা তথ্যের অমিল হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

৩. পুরনো পাসপোর্ট সাথে রাখুন
রিনিউয়ের সময় পুরনো পাসপোর্টের মূল কপি অবশ্যই সঙ্গে নিতে হবে। এটি ছাড়া আবেদন সম্পন্ন হয় না।

৪. সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন
আবেদন করার সময় “Re-Issue / Renewal” অপশন সঠিকভাবে নির্বাচন করুন। ভুল ক্যাটাগরি দিলে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে করতে হতে পারে।

৫. ফি সঠিকভাবে পরিশোধ করুন
নির্ধারিত ফি ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না। টাকা জমা দেওয়ার পর রসিদ সংরক্ষণ করুন—এটি পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হতে পারে।

৬. অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করবেন না
অনলাইনে নেওয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখ ও সময়েই পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত থাকুন।

৭. দালাল বা প্রতারক এড়িয়ে চলুন
পাসপোর্ট রিনিউয়ের জন্য কোনো দালাল প্রয়োজন নেই। দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে।

৮. মোবাইল নম্বর সক্রিয় রাখুন
আবেদনকালীন দেওয়া মোবাইল নম্বরটি চালু রাখুন। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়।

৯. জরুরি প্রয়োজন হলে দ্রুত সার্ভিস নিন
জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে Express বা Super Express সার্ভিস বেছে নিতে পারেন, তবে এতে খরচ বেশি হয়।

১০. সব কাগজপত্রের কপি রাখুন
আবেদন ফরম, রসিদ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ—সব কাগজের ফটোকপি ও সফট কপি রেখে দিন।

পাসপোর্ট রিনিউ করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও ডিজিটাল হয়েছে। সঠিক কাগজপত্র এবং নিয়ম মেনে আবেদন করলে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব। তাই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউ প্রক্রিয়া শুরু করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।