শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে এবার বয়কটের ডাক দিয়েছেন লঙ্কান সমর্থকদের একাংশ। তবে বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বা পাকিস্তানের ভেন্যু ইস্যুর মতো নয়, শ্রীলঙ্কান ভক্তদের অসন্তোষের মূল কারণ তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নির্বাচন।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজনকে দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছিলেন শ্রীলঙ্কার সমর্থকরা। কিন্তু ঘোষিত স্কোয়াডকে বিশ্বকাপ জয়ের মতো শক্তিশালী মনে করছেন না তারা। অভিযোগ উঠেছে, লঙ্কান বোর্ড ও নির্বাচকরা পারফরম্যান্সের চেয়ে বড় নামের দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন।
বিশেষ করে মাহিশ থিকশানা ও কুশল পেরেরার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে ভালো পারফর্ম করা জেফরি ভেন্ডারসেকে দলে না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক সমর্থক। তাদের দাবি, টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে কার্যকর এমন বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
দলের ব্যাটিং শক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভক্তরা। মারকুটে ব্যাটারের অভাব নিয়ে রসিকতাও চলছে। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলছেন, তাহলে টেস্ট স্পেশালিস্ট দিমুথ করুনারত্নেকেই দলে রাখা যেত—যদিও তিনি কখনও শ্রীলঙ্কার হয়ে টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি।
স্কোয়াড নিয়ে অসন্তোষের জেরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি শাম্মি সিলভার দিকেও তীব্র সমালোচনা ছুড়ে দিচ্ছেন সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, স্কোয়াডে তাকেও রেখে দেওয়া হোক।
এরই মধ্যে লঙ্কান সমর্থকদের একটি বড় অংশ ঘোষণা দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দেখতে মাঠে যাবেন না। এমনকি কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে টিকিট না কিনে সেই টাকা দান করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা দল আদৌ কতটা সমর্থন পাবে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
