ঘূর্ণিঝড় ‘ক্রিস্টিন’–এর ফলে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে পর্তুগাল সরকার ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি (Situation of Calamity)’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার দুপুরে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশটির প্রায় ৬০টি পৌরসভায় আগে জারি করা দুর্যোগ পরিস্থিতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় চলমান সব অপারেশনাল সমন্বয় এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিশেষ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
লুইস মন্টেনেগ্রো বলেন, মাটির স্তর ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে পানিতে ভিজে গেছে এবং একাধিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। নদীতীরবর্তী কিছু এলাকায় পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে এবং প্রয়োজনে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে। তিনি জনগণকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকে ২.৫ বিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ সরকারি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এই সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ মিশন গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন ফুন্দাঁও শহরের সাবেক মেয়র পাউলো ফার্নান্দেজ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিমা কভারেজ না থাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী বসতবাড়ি পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো সহায়তা দেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে না। একই পরিমাণ সহায়তা কৃষি ও বন খাতের ক্ষতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এসব পুনর্গঠন কার্যক্রম আঞ্চলিক উন্নয়ন কমিশন ও পৌরসভাগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
আগামী সোমবার লেইরিয়া শহরে নির্মাণ শিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও বাড়ির ছাদ সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকার পরিবার ও ব্যবসার জন্য আলাদা সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলো সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল থেকে প্রতিজন ৫৩৭ ইউরো অথবা পরিবারপ্রতি ১,০৭৫ ইউরো সহায়তা পাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসার জন্য ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর ক্রেডিট লাইন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত কোম্পানির জন্য ছয় মাস সামাজিক নিরাপত্তা অবদান মওকুফ, এবং তিন মাসের সহজ শর্তের লে-অফ সুবিধা চালু করা হবে।
এ ছাড়া বিমাহীন ব্যবসা কাঠামো পুনরুদ্ধারে ১ বিলিয়ন ইউরোর ক্রেডিট লাইন, কোম্পানি ও নিজস্ব আবাসনের ঋণে ৯০ দিনের মরাটোরিয়াম ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ২০০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেওয়া হবে আঞ্চলিক উন্নয়ন কমিটিগুলোকে। রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে ৪০০ মিলিয়ন ইউরো দেওয়া হবে Infraestruturas de Portugal–কে জরুরি সংস্কারের জন্য এবং ২০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে।
সিভিল প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ক্রিস্টিনে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কারণে গাছ ও স্থাপনা ভেঙে পড়া, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া, স্কুল বন্ধ, বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হলো লেইরিয়া, কোইমব্রা ও সান্তারেম।
উল্লেখ্য, দুর্যোগ পরিস্থিতির বর্ধিত মেয়াদ শেষ হবে ঠিক সেই দিন, যেদিন দেশটিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
