শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
নির্বাচন স্থগিতের প্রেক্ষাপটে এর আগে শাকসু নির্বাচনের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত হলে শিক্ষকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে দায় চাপানো হয়। এ কারণে তাঁরা নির্বাচন কার্যক্রমে অংশ নেবেন না এবং অন্য শিক্ষকদেরও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল দখল করা হয়। তখন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। ইউটিএলের পক্ষ থেকে নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে আমাদের ট্যাগিং করা হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তবে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদেরই আবার দোষারোপ করা হবে।”
এদিকে শাকসু নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে দেশব্যাপী কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রশিবির। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই, অর্থাৎ অবশ্যই আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক চাপ, হুমকি বা পেশিশক্তির কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।”
এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনের প্রতিবাদে এবং নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
