সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সন্ধান, দুই তরুণীসহ গ্রেফতার ৪

sylhet honeytrap gang

সিলেট নগরে বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে সম্পর্ক গড়ে তুলে কিংবা সুন্দরী তরুণীদের ছবি দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে যুবকদের ডেকে এনে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার ভোরে নগরের সোবহানীঘাটের যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে দুই তরুণীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরের মিরাবাজার আগপাড়ার জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাটের আবদুল জলিল (৩০) এবং মোগলাবাজারের জায়েদ আহমদ (৩৫)।

শনিবার দুপুরে কোতোয়ালী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে টার্গেট নির্ধারণ করত। পরে তাদেরকে নির্দিষ্ট বাসায় ডেকে এনে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মেন্দিবাগ এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে কৌশলে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। পরে তাদের যতরপুরস্থ নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার ৫ম তলায় তাদেরকে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়।

ওই বাসায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ও জেসমিন আক্তারসহ কয়েকজন। তারা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন চালায়। পাশাপাশি বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী রিফাত আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে বিকাশের মাধ্যমে চক্রটিকে দেয়। এ ঘটনায় পরিবারের সন্দেহ হলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং একটি আইফোন-১৪ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার মো. মনজুরুল আলম।