ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

Green card in the United States

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি নির্বাহী আদেশের ফলে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও রিফিউজি হিসেবে গ্রিনকার্ড আবেদন প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েক হাজার বাংলাদেশিসহ ১০ লাখেরও বেশি বিদেশির যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদে বসবাসের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে।

নিরাপত্তার অজুহাতে কঠোর নীতি

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সন্ত্রাসী, খুনি, দাগি আসামি ও মাদক পাচারকারীরা দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যুক্তির বিরোধিতা করে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন জাস্টিস সেন্টারের পরিচালক আজাদেহ ইরফানি বলেন, “সব অভিবাসীকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থী।”

গ্রিনকার্ড আবেদনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য ৭৬,৮০০ জন আবেদন করেছেন এবং রিফিউজি হিসেবে গ্রিনকার্ড চেয়েছেন ৪০,০০০ জন। এসব আবেদন বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের শঙ্কা

এই কঠোর নীতির কারণে বহু বাংলাদেশি অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং এলডিপির রাজনৈতিক কর্মী-সংগঠকরা, যারা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন, এখন তাদের ভাগ্য ঝুঁকির মুখে। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থক অনেক নেতা-কর্মীও আশ্রয় চেয়েছেন, যাদের অবস্থাও অনিশ্চিত।

গ্রিনকার্ডধারীদের নাগরিকত্বের দিকে ঝোঁক

ইউএসসিআইএস সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে গ্রিনকার্ডধারীদেরও গ্রেপ্তার এবং বহিষ্কারের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে নাগরিকত্বের আবেদন অনেক বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৩০ লাখ গ্রিনকার্ডধারীর মধ্যে ১ কোটি ৮ লাখ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া

মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থাগুলো এই নির্বাহী আদেশকে অমানবিক বলে অভিহিত করেছে এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েনি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং লাখ লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।