ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, সমঝোতা ছাড়াই শেষ বৈঠক

Pakistan meeting US Iran

পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করলেও ইরান তা মানতে রাজি হয়নি।

দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, “আমরা আমাদের রেড লাইন পরিষ্কার করেছি, কিন্তু ইরান আমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। ফলে আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।”

এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর জামাতা ও উপদেষ্টা Jared Kushner এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত Steve Witkoff।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ থেকে সরে আসা উচিত এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে সম্মান জানাতে হবে। তিনি আলোচনাকে ‘নিবিড়’ বলে উল্লেখ করলেও এর সাফল্য প্রতিপক্ষের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন।

আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং চলমান সংঘাতের অবসানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ওপর জোর দেয় এবং তেহরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার চায়।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এখনো তাদের বিরুদ্ধে লড়ছি, সামনে আরও পদক্ষেপ বাকি রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘাত শুরু হয়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

পরবর্তীতে Shehbaz Sharif-এর মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এই ব্যর্থ আলোচনার ফলে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।